সোমবার ১০, আগস্ট ২০২৬

সোমবার ১০, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

রাজনীতি: ফর্সা হওয়ার ক্রিমে পারদ, সৌন্দর্যের আড়ালে স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা?

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম

2005

রাজনীতি: ফর্সা হওয়ার ক্রিমে পারদ, সৌন্দর্যের আড়ালে স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা?

দৈনিক অদম্য বার্তা ডেস্ক: ঢাকা সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ || শ্রাবণ ২৬ ১৪৩৩ || ২৬ সফর ১৪৪৮ হিজরি

ঘটনাবলির বিস্তারিত বিবরণ

ফর্সা হওয়ার ক্রিমে লুকিয়ে পারদের ভয়

ফর্সা ত্বকের আকাঙ্ক্ষায় বাজারের নানা ক্রিম ব্যবহার করেন অনেকে। কিন্তু সম্প্রতি ত্বক ফর্সাকারী আটটি ক্রিমে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বহুগুণ বেশি পারদ পাওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। বাংলাদেশে প্রসাধনীতে পারদের অনুমোদিত সর্বোচ্চ মাত্রা ১ পিপিএম হলেও পরীক্ষায় কিছু পণ্যে এর চেয়ে অনেক বেশি পারদ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিএসটিআই। ফলে ফর্সা হওয়ার চেষ্টায় ত্বকের পাশাপাশি শরীরের ভেতরের অঙ্গও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: কতটা চিন্তার, কতটা স্বাস্থ্যঝুঁকি?

গরমে কেন মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমে?

ত্বকের রং নিয়ে আমাদের সমাজে দীর্ঘদিনের ধারণা—ফর্সা মানেই সুন্দর। এই ধারণা থেকেই অনেকে ত্বকের স্বাভাবিক রং বদলাতে ‘ফেয়ারনেস’ বা স্কিন লাইটেনিং ক্রিম ব্যবহার করেন। কয়েক দিনেই ত্বক উজ্জ্বল করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও এসব পণ্য সবসময় নিরাপদ নয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কিছু স্কিন লাইটেনিং পণ্যে পারদের যৌগ ব্যবহার করা হয়, যা মেলানিন উৎপাদন কমিয়ে ত্বক হালকা করতে পারে। তবে দীর্ঘদিন পারদের সংস্পর্শে থাকলে কিডনি, স্নায়ুতন্ত্র ও ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

ত্বকের স্বাভাবিক রং নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে মেলানিন। কিছু ত্বক ফর্সাকারী পণ্যে মেলানিন তৈরির প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার উপাদান ব্যবহার করা হয়। ফলে ত্বক সাময়িকভাবে হালকা বা উজ্জ্বল দেখাতে পারে।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. শহিদুল্লাহ শিকদারের ভাষ্য, “মার্কারী মূলত ব্যবসায়িক পারপাসে ব্যবহার করে। এটা অ্যাপারেন্টলি একটু ব্লিচিং করে, একটু পরিষ্কার করে, একটু ফর্সা দেখা যায়। কিন্তু, এটার লং টার্ম ক্ষতিকর প্রভাব আছে। চামড়ার ওপরই আছে। আর এটা যদি বডিতে আবজর্ভ হয়, মার্কারী এমন একটা উপাদান যেটা দীর্ঘদিন যদি আপনি ব্যবহার করেন, বডিতে বেশি হয়ে যায়, তাহলে এতে রক্তের কনসেন্ট্রেশন বেশি হলে এটা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে কিডনিতে এবং পরোক্ষভাবে এটা লিভার ও অন্যান্য ভাইটাল অঙ্গগুলোতেও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।”

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় কী মিলেছে?

বাংলাদেশে প্রসাধনীতে পারদের সর্বোচ্চ অনুমোদিত মাত্রা ১ পিপিএম। এর আগেও বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে বিপজ্জনক মাত্রায় পারদ পাওয়া গেছে। ২০২০ সালে ১৩টি ক্রিমের নমুনা পরীক্ষা করে আটটিতে অতিরিক্ত পারদ ও হাইড্রোকুইনোন পাওয়ার পর সেগুলোর আমদানি, বাজারজাত ও বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই আটটি পণ্যে পারদের মাত্রা ছিল ১৯৩ থেকে ৯৪৮ পিপিএম পর্যন্ত।

সম্প্রতি ত্বক ফর্সাকারী পণ্যে পারদের উপস্থিতি নিয়ে পরীক্ষা ও সতর্কতার বিষয়টি সামনে এসেছে। সরকারি মান নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই সম্প্রতি জানিয়েছে যে, বাজারে থাকা আটটি ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বহুগুণ বেশি মার্কারী পাওয়া গেছে।তাই শুধু ‘ফর্সা’, ‘উজ্জ্বল’ বা ‘দাগমুক্ত’ ত্বকের প্রতিশ্রুতি দেখেই কোনো পণ্য ব্যবহার না করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

ত্বকে ব্যবহৃত কিছু উপাদান শরীরে শোষিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) বলছে, পারদযুক্ত স্কিন লাইটেনিং পণ্য নিয়মিত ব্যবহার করলে শরীরে পারদ জমতে পারে। এতে কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতির পাশাপাশি ত্বকেরও ক্ষতি হতে পারে। তাই দ্রুত ত্বক ফর্সা করার আশায় দীর্ঘদিন অজানা বা অননুমোদিত ক্রিম ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ।

ত্বকের স্বাভাবিক রং বদলে ফেলার চেয়ে সুস্থ রাখাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। নিয়মিত মুখ পরিষ্কার করা, ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং বাইরে বের হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছে, ত্বককে জোর করে কৃত্রিমভাবে সাদা বানানোর চেষ্টা না করে, বরং ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক উপায়েই ত্বকের যত্ন নেওয়া ভালো। সেক্ষেত্রে আলোভেরা, টমেটোর রস, কাাঁচা হলুদ, চন্দন, টক দইয়ের প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো ত্বকের কালো দাগ বা হাইপারপিগমেন্টেশন, ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে। আর অকাল বার্ধক্য বা চামড়া কুচকে যাওয়া রোধ করে। কারো কারো ক্সেত্রে অবশ্য এলার্জিজনিত সমস্যায় থাকায় এগুলো থেকে সমস্যা হতে পারে। তাই, ত্বকে যদি কোনো সমস্যা অনুভব করেন, যেটা স্বাভাবিক নয় বলে মনে হচ্ছে, বা ব্রণ বা মেসতার মতো সমস্যা থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ব্রণ, মেছতা, কালো দাগ বা হাইপারপিগমেন্টেশনের মতো সমস্যা থাকলে নিজের ইচ্ছায় ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহার না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো। তবে, ত্বকের রং ফর্সা করাই সৌন্দর্যের মাপকাঠি নয়; সুস্থ ও স্বাভাবিক ত্বকের যত্নই হতে পারে নিরাপদ সৌন্দর্যচর্চা।

*, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অবলম্বনে

কালীগঞ্জের আলোচিত ওসি জেল্লাল হোসেন প্রত্যাহার

ঢাকার সড়কে আসছে বৈদ্যুতিক এসি বাস

ঢাকার বাইরে উন্নত চিকিৎসায় চীনের সহায়তায় ২০ হাসপাতাল

একটি স্কাইরুট মিডিয়া লিমিটেডের প্রতিষ্ঠান

মার্কেটিং : +৮৮-০১৬৮৬৬৯৩৫৪৯ +৮৮-০১৬৮৬৬৯০২৬৬

Install for faster, offline access

Link copied!