সোমবার ১০, আগস্ট ২০২৬

সোমবার ১০, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

রাজনীতি: ১৯৯১ সালের পর ফের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৮ পিএম

2008

রাজনীতি: ১৯৯১ সালের পর ফের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট

দৈনিক অদম্য বার্তা ডেস্ক: ঢাকা সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ || শ্রাবণ ২৬ ১৪৩৩ || ২৬ সফর ১৪৪৮ হিজরি

ঘটনাবলির বিস্তারিত বিবরণ

প্রায় তিন যুগ পর আবারো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পরিস্থিতি তৈরি সম্পন্ন হয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট রাষ্ট্রপতি পদে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করায় এবার আর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ থাকছে না। ফলে একাধিক প্রার্থী থাকলে আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে ভোট হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করল ১১ দলীয় জোট

নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনায় ৬ কমিটি

১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোট হয়েছিল। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাসের কাছে পরাজিত হন। এরপর থেকে রাষ্ট্রপতি পদে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন।

এবারও শুরুতে এমনটাই ধারণা করা হয়েছিল। মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল। নির্বাচন কমিশনও সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করায় পরিস্থিতি পাল্টে গেছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য রবিবার বিএনপি দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। দলটির পক্ষ থেকে রুহুল কবির রিজভী ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি মনোনয়নপত্র নেন। বিএনপি জানিয়েছে, একই প্রার্থীর জন্য সতর্কতামূলকভাবে দুটি ফরম নেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে, এখনো প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি দলটি। তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে।

অন্যদিকে, রাজধানীর মিন্টো রোডে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে ১১ দলীয় জোটের বৈঠকে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রার্থী হওয়ার পর অলি আহমদ তথ্য প্রদান করে ব্যক্ত করেন, তিনি দেশের মানুষের স্বার্থের সঙ্গে কোনো ধরনের বেইমানি করবেন না।

জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে দেখছে। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সবিস্তারে উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে সংস্কারকৃত সংবিধানের অধীনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা উচিত ছিল। সে প্রক্রিয়া না হওয়ায় তারা বর্তমান ব্যবস্থার মধ্যেই প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

একাধিক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা সামনে আসায় ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। রবিবার কমিশনে এ নিয়ে বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে একাধিক প্রার্থী থাকলে ১৮ আগস্ট ব্যালট পেপার ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন। এর মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সংসদ সদস্য ২৫০ জন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ৯০ জন, স্বতন্ত্র ৮ জন এবং ইসলামী আন্দোলনের একজন সংসদ সদস্য রয়েছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে একজন প্রার্থীকে কমপক্ষে ১৭৬ ভোট পেতে হবে। ফলে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের স্থান জাতীয় সংসদ ভবন। সংসদ অধিবেশন না থাকায় প্রয়োজনীয় বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে ইতোমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারাও ভোটের আয়োজনের কাজে যুক্ত থাকবেন।

নতুন রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজনেও প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ছয়টি কমিটি গঠন করেছে। ভোটের পর নির্ধারিত দিন ও সময়ে রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য এসব কমিটি সমন্বয়, নথি সংরক্ষণ, অতিথি তালিকা, আমন্ত্রণপত্র, আসন ব্যবস্থাপনা ও অভ্যর্থনার দায়িত্ব পালন করবে।

সব মিলিয়ে ১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থী হওয়ার কারণে ভোটের প্রয়োজন হচ্ছে। ২০ আগস্টের ভোটের মধ্য দিয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে।

কালীগঞ্জের আলোচিত ওসি জেল্লাল হোসেন প্রত্যাহার

ঢাকার বাইরে উন্নত চিকিৎসায় চীনের সহায়তায় ২০ হাসপাতাল

ঢাকার সড়কে আসছে বৈদ্যুতিক এসি বাস

একটি স্কাইরুট মিডিয়া লিমিটেডের প্রতিষ্ঠান

মার্কেটিং : +৮৮-০১৬৮৬৬৯৩৫৪৯ +৮৮-০১৬৮৬৬৯০২৬৬

Install for faster, offline access

Link copied!