সোমবার ১০, আগস্ট ২০২৬

সোমবার ১০, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

রাজনীতি: রাবির আইসিটি টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে তদন্ত

প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম

2006

রাজনীতি: রাবির আইসিটি টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে তদন্ত

দৈনিক অদম্য বার্তা ডেস্ক: ঢাকা রোববার ০৯ আগস্ট ২০২৬ || শ্রাবণ ২৫ ১৪৩৩ || ২৬ সফর ১৪৪৮ হিজরি

ঘটনাবলির বিস্তারিত বিবরণ

ফাহমিদুর রহমান ফাহিম, রাবি প্রতিনিধি || .কম

২৯ লাখের কাজ ৪৫ লাখে, রাবিতে তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) হল ব্যবস্থাপনা, অটোমেশন সফটওয়্যার ও মোবাইল অ্যাপ তৈরির টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ২৯ লাখ টাকার কাজ ৪৫ লাখ টাকায় দেওয়ার পাশাপাশি তদন্ত কমিটির কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

গাছ লাগিয়ে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা রাবি সায়েন্স ক্লাবের

গুরুতর অসুস্থ শিক্ষার্থীকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে ঢাকায় পাঠাল রাবি প্রশাসন

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির জন্য আহ্বান করা দরপত্রে দেশের ছয়টি সফটওয়্যার কোম্পানি সাড়া দেয়। কারিগরি মূল্যায়নের পর আর্থিক প্রস্তাবনার জন্য অ্যাডিসফট, রাজআইটি সলিউশন ও সফটবিডিকে নির্বাচিত করা হয়। তবে, প্রকল্পটি ৪৫ লাখ টাকায় সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেওয়া অ্যাডিসফট লিমিটেডকে কাজটি দেওয়া হয়। অন্যদিকে, সফটবিডি মাত্র ২৯ লাখ টাকায় কাজটি করার প্রস্তাব দিয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৫ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতি সম্পন্ন হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই কারিগরি মূল্যায়নে মনোনীত তিনটি প্রতিষ্ঠান—অ্যাডিসফট, রাজআইটি সলিউশন ও সফটবিডিকে—আর্থিক প্রস্তাব জমা দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে ১১টি শর্ত দেওয়া হয়েছিল। তবে আর্থিক প্রস্তাব জমা দেওয়ার ঠিক আগে মূল টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির বাইরে গিয়ে আরও দুটি কারিগরি শর্ত যুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ।

অভিযোগ অনুযায়ী, নতুন শর্তের কারণে কম দর প্রস্তাব করা প্রতিষ্ঠান সফটবিডি বাদ পড়ে যায়। এরপর ৪৫ লাখ টাকা প্রস্তাব করা অ্যাডিসফটকে কাজটি দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দেশজুড়ে গণহত্যা, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, কারফিউ ও ছাত্র-জনতার উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই টেন্ডার প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো সম্পন্ন করা হয়। ২৯ জুলাই রাবির আইসিটি সেন্টারে তড়িঘড়ি করে টেন্ডার ইভালুয়েশনের বৈঠক ডেকে কারিগরি মূল্যায়ন শেষ করা হয়। এরপর গণঅভ্যুত্থানের পরদিন ৭ আগস্ট আর্থিক প্রস্তাব জমা দেওয়ার দিন নির্ধারণ করা হয়।

সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ শীর্ষ প্রশাসনের অনেকেই পদত্যাগ ও আত্মগোপনে ছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমও বন্ধ ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা সম্পন্ন হয়েছে। এ অবস্থায় প্রশাসনিকভাবে স্পর্শকাতর এই কাজ কীভাবে সম্পন্ন হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

দরপত্র জমা দেওয়ার স্থান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার দপ্তরে দরপত্র জমা নেওয়া হলেও এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে স্থান পরিবর্তন করে আইসিটি সেন্টারের নিজস্ব বাক্সে দরপত্র জমা নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর)-২০০৮ অনুযায়ী, সরকারি কেনাকাটা ও প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দরপত্র খোলা, কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়ন এবং সরবরাহকৃত সেবা বুঝে নেওয়ার জন্য পৃথক কমিটি থাকার কথা। তবে অভিযোগ উঠেছে, এ প্রকল্পে তৎকালীন আইসিটি পরিচালক, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষক ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খাদেমুল ইসলাম মোল্যা এবং তৎকালীন ডিন অধ্যাপক বিমল কুমার প্রামাণিক বিজয়ী ভেন্ডরের কাছ থেকে কাজ বুঝে নেওয়ার জন্য গঠিত ‘টেকনিক্যাল কমিটি’কে দিয়ে টেন্ডার ওপেনিং, ইভালুয়েশন, মূল্যায়ন নীতি নির্ধারণ ও ফাইনাল রিসিভিংয়ের কাজ করিয়ে নেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এটি পিপিআর-২০০৮-এর নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

টেকনিক্যাল কমিটির সভাপতি ছিলেন তৎকালীন ডিন অধ্যাপক বিমল কুমার প্রামাণিক। সদস্য ছিলেন প্রভোস্ট কাউন্সিলের তৎকালীন সভাপতি, সিএসই বিভাগের অধ্যাপক আসিফ জামান, সহযোগী অধ্যাপক মাহবুব কাওছার, সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার চক্রবর্তী এবং আইসিটি সেন্টারের নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার রাহেল মাহফুজ সরকার।

অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওই কমিটি একই বছরের আগস্টে প্রতিবেদন জমা দেয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেই প্রতিবেদনে অভিযুক্ত শিক্ষকদের আড়াল করে শুধু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হয়। দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ না করায় পূর্ব নোটিশ ছাড়াই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাজটি কেড়ে নেওয়া হয় বলেও জানা গেছে।

তদন্ত কমিটির কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষের পর ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট অনুষ্ঠিত ৫৪১তম সিন্ডিকেট সভায় তৎকালীন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মাঈন উদ্দীনকে প্রধান করে তিন সদস্যের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিন কমিটির কাজ কেন টেকনিক্যাল কমিটি দিয়ে করানো হয়েছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে তৎকালীন টেকনিক্যাল কমিটির সভাপতি অধ্যাপক বিমল কুমার প্রামাণিক সবিস্তারে উল্লেখ করেন, “এটা নিয়ে তো দুই বছর ধরে তদন্ত চলছে। অনেকবার আমরা কথা বলেছি। দুইটা তদন্ত কমিটির সামনে এসব বিষয়ে কথা বলেছি। এখন আবার নতুন করে আমি কিছু বলতে চাই না। প্রশাসনের কাছে আমরা দুইবার লিখিত জবাবও দিয়েছি। লিখিতভাবে আমরা সব জানিয়েছি। সকল অভিযোগ মিথ্যা। কোনো অভিযোগ সত্য নয়।”

একই প্রশ্নের উত্তর জানতে টেন্ডার ইভালুয়েশন কমিটির (টিইসি) তৎকালীন সভাপতি ও সিএসই বিভাগের অধ্যাপক শামীম আহমদকে ফোন করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গিয়েছিল কি না জানতে চাইলে দ্বিতীয় তদন্ত কমিটির সভাপতি ও সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মাঈন উদ্দীন সবিস্তারে উল্লেখ করেন, “এ কাজটি এখন বর্তমান উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) দায়িত্বে আছে এবং তার দায়িত্বেই শেষ হবে। আমি দায়িত্বে থাকাকালে কিছু কাজ করে দিয়ে এসেছিলাম। বর্তমানে কাজটির কতটুকু অগ্রগতি সম্পন্ন হয়েছে, সেটা তুমি বর্তমান উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) স্যারের কাছ থেকে জেনে নাও।”

তিনি আরো সবিস্তারে উল্লেখ করেন, “উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) স্যার আমার কাছ থেকেও কাজটির বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিয়েছিলেন এবং আমি কতটুকু কাজ করেছি, তা তাকে বলে এসেছি। এখন আমি আর দায়িত্বে নেই। তাই আমার কাছ থেকে এ বিষয়ে না জেনে বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত স্যারের কাছ থেকেই তথ্য নাও।”

একই বিষয়ে বর্তমান উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলিমকে প্রশ্ন করা হলে তিনি সবিস্তারে উল্লেখ করেন, “এটার কাজ চলছে। তদন্ত রিপোর্ট এখনো পাবলিশড হয়নি। কমিটি প্রাথমিক কাজ করেছে। এখনও রিপোর্টটা আমার দেখার সুযোগ হয়নি। দ্রুতই এটা নিয়ে বসব আমরা। সিন্ডিকেটে এটা সংশোধন করা লাগবে। তারপরে জানতে পারব।”

আইসিটি সেন্টারের তৎকালীন পরিচালক ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম মোল্যাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম সবিস্তারে উল্লেখ করেন, “আমার জানা মতে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা হয়ে যাওয়ার কথা। আমাকে এ বিষয়টা একটু খোঁজ নিয়ে জানতে হবে। তারপর বিস্তারিত জানাতে পারব।”

টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগ, পৃথক তদন্ত কমিটির কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখনো পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তদন্ত প্রতিবেদন ও পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য নিশ্চিত করেনো হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তির জন্য তদন্তের ফল এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।

এ সপ্তাহের রাশিফল (৮-১৪ আগস্ট)

কালীগঞ্জের আলোচিত ওসি জেল্লাল হোসেন প্রত্যাহার

ঢাকার বাইরে উন্নত চিকিৎসায় চীনের সহায়তায় ২০ হাসপাতাল

ঠিকানা: ১৯৮-১৯৯, মাজার রোড, মিরপুর-১, ঢাকা ১২১৬

একটি স্কাইরুট মিডিয়া লিমিটেডের প্রতিষ্ঠান

মার্কেটিং : +৮৮-০১৬৮৬৬৯৩৫৪৯ +৮৮-০১৬৮৬৬৯০২৬৬

Install for faster, offline access

Link copied!