প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
2167
সোমবার ১০, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --
বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একাধিক চাপের মুখে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি, মানুষের আয় কমে যাওয়ায় ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে এবং কর্মসংস্থানের পরিস্থিতিও সন্তোষজনক নয়। একই সঙ্গে বিনিয়োগের গতি কমে যাওয়ায় অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, টানা কয়েক বছর ধরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে আসছে। বেসরকারি বিনিয়োগ দুর্বল থাকায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে তরুণদের জন্য চাকরির সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে মূল্যস্ফীতির হার ৮ শতাংশের ওপরে অবস্থান করায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। আয় বাড়ার তুলনায় ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বাস্তব আয় কমে যাচ্ছে, যা বাজারে চাহিদা কমিয়ে দিচ্ছে এবং উৎপাদন ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অর্থনীতিতে নতুন করে চাপ তৈরি করছে বৈদেশিক খাত ও জ্বালানি সংকট। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে।
এ ছাড়া ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর্থিক খাতের দুর্বলতা অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয় কমে যাওয়ায় উন্নয়ন ব্যয় পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ব্যাংকিং খাত সংস্কার করা। পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সুপরিকল্পিত নীতি গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।